Information

কোথায় পাবেন মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা (সাইকোথেরাপী)? বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিষয়টি এবং চিকিৎসা মনোবৈজ্ঞানিক সেবা অপেক্ষাকৃত নতুন ধারণা। দেশের অগণিত শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত সমাজ এই বিষয় সম্পর্কে এখনো সুস্পষ্টভাবে জানে না। জটিল মানসিক রোগের পাশাপাশি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মাঝে অনেক ধরনের মানসিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে এবং এই সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্দেশ্যেই সাইকোথেরাপীর জন্ম। বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা অধিকতর সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন এবং উত্তরোত্তর এর পদচারনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সবার প্রয়োজনেই জেনে নেয়া যাক কোথায় পেতে পারেন এই চিকিৎসা?

১) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (Old IPGMR) হাসপাতালটির ডি ব্লকের ১২ তলায় অবস্থিত মনোরোগবিদ্যা বিভাগে সপ্তাহে ছয়দিন (শুক্রবার ও সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৮টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাইকোথেরাপী চলছে। উক্ত বিভাগের সাইক্রিয়াট্রি উয়িং-এ চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা বহিবির্ভাগ থেকে পাঠানো রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি সোমবার ১০টায় এলোকেশন মিটিং-এর মধ্য দিয়ে যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ও শিশুকে নির্দিষ্ট থেরাপী-এর অধীনে দেয়া হয়। এখানে একক থেরাপী ছাড়াও রিলাক্সেশন গ্রুপ, সোশ্যাল স্কিল ট্রেনিং এবং গ্রুপ থেরাপী প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক বিভাগ: শিশুদের জন্য প্রতি বুধবার মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। শনি, রবি এবং সোমবার শিশুদেরকে নিয়ে নিউরোলজিক্যাল সমস্যার জন্য ডাক্তারদের কাছে আসা হয়। ডাক্তাররা প্রয়োজন ও সমস্যা অনুযায়ী সাইকোথেরাপীস্টের কাছে তাদের পাঠিয়ে থাকেন।

২) জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (NIMH) ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত (শ্যামলীর শিশু মেলা এবং কিডনি ইনস্টিটিউটের মাঝে) ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই সরকারী মানসিক হাসপাতালটিতে ইনডোর এবং আউটডোর বিভাগে সকল বয়সী মানুষের বিনামূল্যে/স্বল্পমূল্যে মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। এই হাসপাতালের সাইকোথেরাপী বিভাগ হতে যে কেউ মনোবৈজ্ঞানিক সেবা নিতে পারেন।

৩) ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার (NTCC) বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টি-সেক্টরাল প্রোগ্রাম-এর আওতায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারে মূলত নির্যাতিত নারী ও শিশুদের মনোবৈজ্ঞানিক সেবা প্রদান করা হয। এখানে যে কোন ধরনের নির্যাতনের (শারীরিক/মানসিক/যৈান/আবেগীয়) শিকারগ্রস্থ নারী ও শিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাইকোথেরাপী প্রদান করা হয়। নির্যাতন ছাড়া অন্য যে কোন প্রকার মানসিক সমস্যাজনিত কারণেও উক্ত সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই সেবাব্যবস্থা সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার সহ যে কোন সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত অন্যদিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ভবন (৪র্থ তলা); ৩৭/৩, ইস্কাটন গার্ডেন রোড; ঢাকা-১০০০। ফোন:৮৩২১৮২৫; মোবাইল: ০১৭১৩১৭৭১৭৫

৪) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ও পরামর্শদান কেন্দ্র (TSC) শুক্র বার ব্যতীত সপ্তাহে ছয়দিন সকাল ৯.৩০টা থেকে ৪.৩০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে মনোবৈজ্ঞানিক সুচিকিৎসার ব্যাবস্থা রযেছে।

৫) আইসিডিডিআরবি (ICDDRB) মহাখালীতে অবস্থিত এই হাসপাতালটির জাগরীতে এইচআইভি টেস্টিং এবং কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের জাগরী ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এখানে ইনডোর এবং আউটডোর বিভাগে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং দেয়া হয়। শুক্রবার ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল ৮.৩০ থেকে এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

৬) ঢাক কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সপ্তাহের মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার এখানে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মনোবৈজ্ঞানিক সেবা দেয়া হয়। এখানে সকল বয়সী রোগীর জন্য মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালটির ঠিকানা: ১৯০/১, বড় মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট, ঢাকা-১২১৭।

৭) বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এই হাসপাতালের শিশু বিকাশ কিনিকে শিশুদের মানসিক ও আচরণগত সমস্যার জন্য সাইকোথেরাপী দেয়া হয়।

৮) ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC) ঢাকাসহ বাংলাদেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গুলোতে স্থাপিত ওসিসি সেন্টারে বিশেষত নির্যাতনের শিকার মহিলাদের মনোবৈজ্ঞানিক সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও অভিজ্ঞ চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীগণ ব্যক্তিগতভাবে সাইকোথেরাপী প্রদান করে থাকেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ মনভুবন প্রথম সংখ্যায় অক্টোবর ২০১০ এ লিখাটি প্রকাশিত হয়েছে। এই লিখার সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে অনুগ্রহ করে
এই ঠিকানায় ইমেইল করুনঃinfo@bcps.org.bd